কচুরিপানা দিয়ে মাছের সুস্বাদু রেসিপি (ভিডিও)

কচুরিপানার বংশবৃদ্ধির অবস্থা দেখে আঁতকে উঠতে হয়। অতি অল্প দিনে এই উদ্ভিদ দ্রুত বংশ বিস্তার করে। আদিভূমি ব্রাজিল থেকে অভিযান শুরু করে আজ পৃথিবীব্যাপী এর দৌরাত্ম্য ছড়িয়ে পড়েছে।

কচুরিপানায় যেমন বহমান পানির স্রোত বন্ধ হয়ে নৌচলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়, তেমনই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টার্বাইনে জড়িয়ে তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া বদ্ধ পানিতে কচুরিপানার জন্য সাপের উপদ্রব এবং মশা-মাছির দ্রুতবৃদ্ধি দেখা যায়।

এ জন্য এক সময়ে অবিভক্ত ভারতবর্ষে সব রাজনৈতিক দলই কচুরিপানা সাফ করার কর্মসূচি তাদের ইশতেহারে রাখত। গুরুসদয় দত্ত তার ব্রতচারী গানগুলোর

মধ্যে কচুরিপানা ধ্বংসের ডাক দিয়েছিলেন। তবে এ কালের এক দল বিজ্ঞানী কচুরিপানা নিয়ে হাতে-কলমে পরীক্ষা চালিয়ে দেখিয়েছেন যে কচুরিপানা আসলে সম্পদ।

এদিকে কচুরিপানার পাতা মানুষের খাবার উপযোগী করা যায় কিনা, এ নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে। গতকাল পরিকল্পনামন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

এদিন পুরো বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমি অনুরোধ করবো কচুরিপানা নিয়ে কিছু করা যায় কীনা? আমি তো গ্রামের ছেলে। আমাদের এলাকায় নদীগুলো সব কচুরিপানায় ভর্তি। কচুরিপানার পাতা খাওয়া যায় না কোনও মতে?

গরু খেতে পারলে আমরা কেন পারবো না?’ এসময় তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘এমনি একটা কথা বললাম।’ তিনি মূলত কচুরিপানা নিয়ে গবেষণার কথা বলেছেন।

তবে কচুরিপানা নিয়ে তুমুল বিতর্কের পর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে আজ মঙ্গলবার বলেছেন, আমার বক্তব্যকে গণমাধ্যমে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি কচুরিপানা নিয়ে গবেষণা করতে বলেছি। খেতে বলিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি কি সবাইকে কচুরিপানা খেতে বলবো? আমি কি বাংলার মানুষ নই? আমার মা-বাবা কি বাংলার মানুষ নয়? এটা কিভাবে আমি বলি?’’

‘‘আপনাদের সামনে কথা বলতে ভয় লাগে আমার। তবে সঠিকভাবে বক্তব্য বুঝতে হবে। গবেষণার আওতা সীমাহীন। গবেষণার কোনো সীমিত পরিসর থাকতে পারে না? আমি বলেছিলাম কচুরিপানা নিয়ে গবেষণা করেন। খেতে বলিনি।’’

তিনি আরও বলেন, ‘সে অনুষ্ঠানে কৃষি গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। আমি তাদের বললাম কচুরিপানা কি খাওয়া যেতে পারে? এতে কোনো ক্ষতি আছে?’

কচুরিপানা আসলে কি?

কচুরিপানা মুক্তভাবে ভাসমান বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। এর আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। পুরু, চকচকে এবং ডিম্বাকৃতির পাতাবিশিষ্ট কচুরিপানা পানির উপরিপৃষ্ঠের ওপর ১ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এর কাণ্ড থেকে দীর্ঘ, তন্তুময়, বহুধাবিভক্ত মূল বের হয়, যার রঙ বেগুনি-কালো। একটি পুষ্পবৃন্ত থেকে ৮-১৫টি আকর্ষণীয় ৬ পাঁপড়ি বিশিষ্ট ফুলের থোকা তৈরি হয়।

কচুরিপানা খুবই দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। এটি প্রচুর পরিমাণে বীজ তৈরি করে যা ৩০ বছর পরও অঙ্কুরোদগম ঘটাতে পারে। সবচেয়ে পরিচিত কচুরিপানা Eichhornia crassipes রাতারাতি বংশবৃদ্ধি করে এবং প্রায় দুই সপ্তাহে দ্বিগুণ হয়ে যায়।

কচুরিপানা দিয়ে কাগজের মণ্ড তৈরির পাশাপাশি বায়ো ফুয়েল হিসেবে ব্যবহার করে বিশ্বের অনেক দেশ। শুধু তাই নয়, কচুরিপানা আসলেই খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয় কম্বোডিয়ায়।

দেশটির মানুষ কচুরিপানা লতি আর ফুল ব্যবহার করে অসাধারণ একটি মাছের স্যুপ তৈরি করে, যা তাদের নিত্যকার খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। আপনারা যারা এই লেখাটি পড়ছেন তাদের সুবিধার্থে এ রেসিপিটি দেয়া হলো।

ব্যবহৃত উপকরণ-

১। কচুরিপানার ফুল ও লতি, ২। শাক পাতা, ৩। শোল মাছ, ৪। রসুন, ৫। আদা, ৬। লাল মরিচ, ৭। বিশুদ্ধ পানি, ৮। লবণ

প্রথমে শোল মাছ কেটে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিয়ে হবে। এরপর কচুরিপানা থেকে ফুলসহ লতি আলাদা করে নিতে হবে। এরপর শাক পাতা কুচি করে কেটে নিতে

হবে। এরপর চুলায় পানি গরম করে তাতে রসুন কোয়া ও আদা ছিলে পিষে দিয়ে দিতে হবে। পরে ধুয়ে পিচ করে রাখা মাছের টুকরা দিয়ে দিতে হবে।

মাছ সিদ্ধ হয়ে আসলে এতে একে একে কেটে রাখা শাক পাতা, কচুরিপানার ফুল ও লতি দিয়ে দিতে হবে। এরপর লাল মরিচ ফালি করে কেটে দিয়ে দিতে হবে। সবশেষে লবণ দিয়ে ফুটাতে হবে। ১০ মিনিট বাদে নামিয়ে পরিবেশন করতে হবে। আশা করি ভিন দেশের খাদ্য হলেও খেতে খুব একটা খারাপ হবে না।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*